অ্যামেরিকাতে আন্তর্জাতিক (F-1) ছাত্রছাত্রীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগসমূহ

অ্যামেরিকায় পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে আসা বা পড়াশুনার সুযোগ খুঁজতে থাকা অনেকেই জানে না তাদের হাতে খণ্ডকালীন কাজের জন্য কি কি সুবিধা রয়েছে। আজ অ্যামেরিকায় ছাত্রজীবনে কাজ করার সুযোগগুলো নিয়ে আলাপ করা হল।

১। ক্যাম্পাস জব 

যে কোন ছাত্র/ ছাত্রী ক্যাম্পাসে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুবিধা পেয়ে থাকে। ক্যাম্পাসে নানা ধরনের কাজ পাওয়া যায়। ক্যাফে, কেইটেরিং, কফি শপ, স্টোর এইগুলো ছাড়াও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করার সুযোগ মেলে। কাজ শুরু করার আগে সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের জন্য আবেদন করতে হয়। এইসব  আবেদনের কাজ বা অন্যান্য পেপারওয়ার্কের ব্যাপারে তোমাকে ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সাথে কথা বলে নেয়া ভালো। নিজে নিজে করতে গেলে ভুল করার সম্ভাবনা থাকে।  একটু খোঁজ খবর নিলেই কাজ পাওয়া তেমন কঠিন নয়। আর ভালো কথা, সামারের সময় (জুন) ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ থাকে। অনেক ছাত্র/ ছাত্রী এই সময়ে কাজ করে ভালো হাত খরচের টাকা উঠিয়ে নেয়।

২। সিপিটি  (CPT- Curricular Practical Training)

স্টুডেন্ট ভিসাতে এসে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। যাকে বলা হয় সিপিটি। সিপিটি নিয়ে কাজ করতে হলে আগে কাজ জোগাড় করতে হবে এবং অবশ্যই কাজটি তোমার পড়াশুনার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। বিভিন্ন জব ওয়েবসাইটে  (www.indeed.com) গেলেই তুমি ইন্টার্নশিপের অনেক কাজের সন্ধান পাবে। অথবা তোমার ভার্সিটির ওয়েবসাইটেও অনেক জবের সন্ধান পাওয়া যাবে। তোমার পড়াশুনা বা অভিজ্ঞতার সাথে মিলে এমন দেখে আবেদন করলে সাড়া পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা থাকে। সাধারনত কোন ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলে সিপিটিতে যাওয়া যায়।  কিন্তু ধরা যাক, তুমি এঞ্জিনিয়ারিং পড়তে অ্যামেরিকা এসেছ, কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে তুমি একটা অফিসে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে। তুমি যদি তা করা শুরু কর তাহলে তোমার লিগ্যাল স্ট্যাটাস ঠিক থাকবে না এবং পরবর্তীতে ওয়ার্ক পারমিট  (ওপিটি) পেতে ঝামেলা হবে। কাজেই ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।  সিপিটিতেও সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে তুমি ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পাবে এবং সামারে ফুল টাইম করতে পারবে। আরেকটি বিষয় সিপিটি তে ফুল টাইম কাজ এগারো মাসের বেশী করা যাবে না। যদি কর তাহলে তুমি ওপিটিতে কাজের সুযোগ হারাবে।

৩। ওপিটি (OPT- Optional Pratical Training)

যে কোন ছাত্র/ছাত্রী পড়াশুনার শেষ পর্যায়ে এসে ওপিটির জন্য আবেদন করার সুযোগ পেয়ে থাকে। অনেকে শেষ সেমিস্টার থেকেও ওপিটি শুরু করে দেয়। ধরা যাক তুমি সিপিটিতে কোথায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলে এবং পরবর্তীতে ঐখানে তোমার ফুল টাইম কাজের জন্য ডাকা হল। সেই ক্ষেত্রে তুমি আগেই ওপিটির জন্য আবেদন করতে পার। বলে রাখা ভালো ওপিটি তে আবেদন করার পর ২-৩ মাস সময় লাগে ওপিটি কার্ড হাতে আসতে। এবং ওপিটি কার্ড হাতে পাওতার আগে কাজ করার সুযোগ নেই। কাজেই বুঝেশুনে আবেদন করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি তুমি কোন ইন্টার্নশিপের সুযোগ না পেয়ে থাক তাহলে সেমিস্টার শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে ওপিটি র জন্য আবেদন করতে পার। আবেদন করার সময় তুমি লিখে দিতে পারবে কবে থেকে তুমি কাজ শুরু করতে চাও। ধরা যাক, তোমার গ্রাজুয়েশন শেষ হবে মে মাসের ২৫ তারিখ এবং তোমার ইচ্ছে ২৬ তারিখ থেকেই জব শুরু করে দিবে। সেই ক্ষেত্রে তুমি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ওপিটির জন্য আপ্লাই করতে পার।  এইখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেটা মনে রাখতে হবে তা হল ওপিটি কার্ড পাওয়ার পর তোমার হাতে ৩ মাসের সুযোগ থাকবে চাকুরী পাবার। তুমি যদি তিন মাসের মধ্যে কোন কাজ না পাও তাহলে তুমি আবার লিগ্যাল স্ট্যাটাস হারাবে।  এবং পরবর্তীতে আবার নানা ঝামেলায় পড়তে হবে।

অ্যামেরিকায় খণ্ডকালীন কাজের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকলে নীচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পার।

 

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *