বিশ্বের ২য় ধনী ব্যক্তির গল্প

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষটি যে বিল গেইটস সেটা জানে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া  দুষ্কর। কিন্তু যদি বলা হয় যে দ্বিতীয় ধনী মানুষটি কে তাহলে হয়ত অনেকেই বলতে পারবে না। কেউ হয়ত বলে বসবে ওয়ারেন বাফেট বা মার্ক জুকারবার্গ । নাহ, তাদের কেউ নয় কিন্তু। বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী মানুষটি হচ্ছে আমাঞ্চিও  ওরটেগা (Amancio Ortega)। কি নামটা শুনে একটু অবাক লাগছে? লাগারই কথা। আমারও লেগেছিল। কখনো যে এই নামটি শুনিনি। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট (Forbes) ঘেঁটে দেখা যায় যে তার মত সম্পদের পরিমাপ ৬৭  বিলিয়ন ডলার!

Amancio Ortega
Credit: Forbes

ওরটেগা একজন স্প্যানিশ মাল্টি- বিলিওনিয়ার এবং সেই সাথে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী বাক্তি। জগত বিখ্যাত পোশাকের প্রতিষ্ঠান থারার (Zara) মালিক তিনি। যদিও অনেকে জারা বলে থাকেন কিন্তু উচ্চারণ হবে থারা । সারা বিশ্বের প্রায় ৮৮ টি দেশে থারার শাখার সংখ্যা ২০০০ টি। ওরটেগা কিন্তু অন্যান্য ধনকুবেরদের মত উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু অর্জন করেনি। পুরোটাই তাঁর নিজের পরিশ্রমের ফসল। গরীব ঘরে জন্ম নেয়া ওরটেগার শৈশবকাল বেশ কষ্টেই পার হয়েছিল। বাবা ছিলেন সামান্য রেল্ওয়ের কর্মচারী। তাঁর বাবার আয় দিয়ে টেনেটুনে সংসার চলত এবং প্রায়ই না খেয়ে রাতে ঘুমাতে হত তাকে। অভাবে পড়ে মাত্র তের বছর বয়েসে স্কুল ছেড়ে দিয়ে পোশাক  তৈরির দোকানে কাজ করা শুরু করতে হয়েছিল। ছোট্ট হাতে সেখানে অমানুষিক পরিশ্রম করে জীবনের পথে রাস্তা খুঁজে নিতে হয়েছিল ওরটেগাকে।  এত কষ্ট আর অভাবই হয়ত তাকে প্রেরনা জুগিয়েছিল কিছু করে দেখানোর। প্রতিজ্ঞা করছিলেন যে যেমন করেই হোক তাঁর পরিবারকে যেন এই রকম দুর্ভাগ্যময় জীবন না কাটাতে হয়। মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর নিজের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর আগে ১৯৭৫ সালে তিনি থারাকে দাড় করান। তারপর থেকে আর পিছে ফিরে থাকাতে হয়নি তাঁকে।

REUTERS/Miguel Vidal

কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া তাঁর এইভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর গল্প সত্যিই বিস্ময়কর। কি এমন আছে থারাতে যা অন্যান্য ব্র্যান্ডের মাঝে নেই? সেই গোপন সূত্র জানতে হলে থারাতে ঢুঁ মারতে হবে। থারার কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় যা অন্যদের মাঝে নেই। প্রথমত, কোয়ালিটি এবং দামের মধ্যে এক অসাধারণ সম্পর্ক বের করে নিয়েছিলেন ওরটেগা।  থারাতে কোয়ালিটি নিয়ে কোন আপোষ নেই। একদম হাই কোয়ালিটির একটি পণ্য আপনি কিনতে পারছেন সাশ্রয়ী দামে। দ্বিতীয়ত, নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক সময়মত বাজারে নিয়ে আসায় থারা বেশ পারদর্শী। হয়ত আপনি কোন ফ্যাশন শো তে একটি পোশাক দেখতে পেলেন এবং কিনার ইচ্ছে পোষণ করলেন। কিন্তু অন্যান্য ব্র্যান্ড যেখানে সেই পোশাকটি দোকানে নিয়ে আসতে মাসখানেক লাগিয়ে দিবে সেখানে থারাতে কিন্তু পোশাকটি ২ সপ্তাহের মাঝে চলে আসবে।  সময়মত সঠিক পোশাকটি বাজারে নিয়ে আসার গুরুত্ব যে কতটা তা থারাকে না দেখলে বুঝা সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, জায়গা নির্বাচন এবং দোকান পরিচালনায় তিনি অন্যান্যদের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে। তিনি জানেন কোথায় এবং কতক্ষণ ধরে দোকান খুলে রাখতে হবে। অন্যান্য দোকান হয়ত কোনরকম রিস্ক না নিয়ে দোকান স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখবে কিন্তু ওরটেগা সাধারণদের মত গাঁ ভাসিয়ে চলার মত নয়।  তার সেই রিস্ক আর পরিশ্রমের ফসল আজকের থারা। থারা অ্যাড নিয়েও খুব একটা মাথা ঘামায় না। অন্যান্য ব্র্যান্ড যেখানে তাদের মোট রেভেনিউর ৫% অ্যাডের পিছনে খরচ করে ফেলে সেখানে থারা মাত্র ০.৫% দিয়েই দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছে।

তাঁর মেয়ে সান্দ্রা ওরটেগা মেরা স্পেইনের সবচেয়ে ধনী নারী। ওরটেগা প্রচার-বিমুখ মানুষ। কিছুদিন আগেও মানুষ তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানত না। কিন্তু এখন সবাই তাঁকে চিনতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছে যে হয়ত তিনি ছাড়িতে যাবেন বিল গেইটসকেও!

Leave a comment

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *