পরবাসের শহুরে জীবন

আজ রবিবার। ছুটির দিনে সচরাচর রান্নাবান্না করা হয় যা দিয়ে সপ্তাহের ২/৩ দিন অনায়াসে চালানো যায়। সময় বাঁচানোর চেষ্টা আরকি। এই শহরে মানুষের সময়ের বড়ই অভাব। কাউকে কল দিতে হলেও আগে জিজ্ঞেস করে নিতে হয় যে কখন কথা বলা যাবে! দুপুর আর বিকেলের মাঝামাঝি সময় এখন। চমৎকার রোদেলা দিন আজকে। বহুদিন পরে যেন সূর্য্যিমামার খেয়াল হয়েছে এই শহরে  যে রোদ বিলানো হয় না। শীতকালের তুষারঝড় আর আপাদমস্তক জুড়ে গরম কাপড় পড়ার দিন শেষ হয়ে এলো বলে। বসন্ত কাল কিছুদিন আগে শুরু হলেও আজই মনে হয় প্রথম তার আগমনী বার্তা পেলাম।

আসেপাশের দৃশ্য বদলে যাবার সময় হয়ে এসেছে। ন্যাড়া গাছগুলোতে রঙ বেরঙের পাতা ফুটে উঠবে ধীরেধীরে। সূর্যের উত্তাপ পাওয়া যাবে দিনের ১২ ঘণ্টার মত। সূর্যের আলোর দেখা পেলেই এইখানের মানুষের মনে উৎসব ভাব জেগে উঠে। আর উঠবেই না কেন। দীর্ঘ ৫ মাস প্রবল ঠাণ্ডাতে কাঁপাকাঁপির পর কেই বা না চাইবে সূর্যের আলোয় গা ভাসাতে। সেন্ট্রাল পার্কে আর কিছুদিন পরেই শুরু হবে মানুষের ব্যাপক আনাগোনা। ম্যানহাটনের ঠিক মাঝখান জুড়ে এই বিশাল পার্কের অবস্থান।

Aerial View of Central Park
Credit: http://bigappledreaming.com/

চেরি ব্লসম দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে অনেকেই।  মাত্র অল্প কিছুদিনের জন্য দেখা যাবে ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটে থাকা চেরি ফুল। গোলাপি পাপড়িতে ঢেকে যাবা পায়ে হাঁটা পথ। সে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। শুধু কি তাই নানা ধরনের মেলা, উৎসব, আর্ট, গান-বাজনা, নানা দেশের খাবারের পসার, ফিল্ম, থিয়েটার একের পর এক লেগেই থাকে এই শহরে। নানা বর্ণের মানুষের এক অদ্ভুত মিলন মেলা। বলা হয়ে থাকে নিউ ইয়র্ক শহরে ১০০+ দেশের মানুষের বাস আর ২০০ ধরনের ভাষা। আর পুরো অ্যামেরিকার ৪০ ভাগ বাঙ্গালি শুধু নিউ ইয়র্ক শহরেই বাস করে।

বিরামহীন এই শহরে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা ধরেই পাতাল রেল চলছে আর মানুষজন ছুটছে কাজে । থাক না মানুষের গাদাগাদি ভিড়ের মাঝে কাজে যাওয়া আর ব্যস্ততার লাগামহীন জীবন। তারপরেও এইসব বৈচিত্র্যতাই এই শহরের মানুষের মনের খোরাক। একবার মন লেগে গেলে এই শহর ছাড়া যে দায়।

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *